বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেটীয় মেধা কাজে লাগানোর বিরাট সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক কিংবদন্তি পেসার ও খ্যাতনামা ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভিত শক্তিশালী করতে সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের মেধাকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ধারাভাষ্য দিতে এসে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিবের পদচারণা ও অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কথা বলেন বিশপ।
রাজনীতি এড়িয়ে সাকিবের মেধার গুরুত্ব:
মাঠের বাইরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জটিলতার কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিবের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাননি বিশপ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাকিবের দেশে অনুপস্থিতির মূল কারণ সম্পর্কে তাঁর কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।
তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের মেধা প্রসঙ্গে বিশপ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বছরের পর বছর ধরে অর্জিত এই বিশাল জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা যদি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া না যায়, তবে তা দেশের ক্রিকেটের জন্যই বড় ক্ষতি।
ক্যারিবীয় ক্রিকেটের উদাহরণের স্মৃতিচারণ:
অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে নিজের জন্মভূমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদাহরণ টেনে বিশপ জানান, ব্রায়ান লারা, কার্টলি অ্যামব্রোস, মাইকেল হোল্ডিং, জোয়েল গার্নার কিংবা পরবর্তী সময়ের কাইরন পোলার্ড, ডোয়াইন ব্রাভো ও ড্যারেন স্যামিদের মতো তারকাদের অভিজ্ঞতা জাতীয় দল থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক এবং তৃণমূলের স্কুল পর্যায়ে কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশেরও উচিত সাবেক ক্রিকেটারদের জ্ঞানকে পাইপলাইনে রূপান্তর করা।
বিসিবিতে সাবেক তারকাদের নতুন ভূমিকা:
বর্তমানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এইচপি (হাই পারফরম্যান্স) দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন এবং তামিম ইকবাল ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এমন ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে সাকিবের অসাধারণ ক্রিকেট মস্তিষ্ককে কীভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থে নিয়োজিত করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

