যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ এক লাফেই বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০০ ডলার ঘোষণা করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)।
সংস্থাটি জানায়, যারা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) ‘হোম’ অ্যাপ ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের আবেদন করবেন, তারা পূর্বে নির্ধারিত ১ হাজার ডলারের পরিবর্তে নতুন এই প্রণোদনা বা ‘এক্সিট বোনাস’ পাবেন।
নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ গ্রহণকারীদের সম্পূর্ণ নিখরচায় নিজ দেশে বা বৈধভাবে বসবাসের অনুমোদন থাকা অন্য দেশে পৌঁছানোর ভ্রমণ সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের পর অবৈধভাবে অবস্থান করার কারণে প্রযোজ্য আইনি জরিমানা বা শাস্তি মওকুফের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। যার মধ্যে শুধু গত এক বছরেই সিবিপি অ্যাপ ব্যবহার করেছেন প্রায় এক লাখ ব্যক্তি। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের এখনই এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে জোরপূর্বক ফেরত পাঠাবে, যার ফলে তারা পরবর্তীতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আইনি অধিকার চিরতরে হারাবেন।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, একজন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার, আটক ও জোরপূর্বক নিজ দেশে পাঠাতে সরকারের গড়ে ১৮ হাজার ২৪৫ ডলার ব্যয় হয়। সেই তুলনায় এই স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় করবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোরপূর্বক ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে দীর্ঘ কূটনৈতিক জটিলতা থাকে। স্বেচ্ছায় ফেরার এ পদক্ষেপে সেই আমলাতান্ত্রিক বাধা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও মিনিয়াপোলিসসহ একাধিক প্রধান শহরে মার্কিন ইমিগ্রেশন বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। ধরপাকড়ের ঘটনা ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগের চিত্র অভিবাসী সমাজে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের মেয়াদের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রণোদনা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এটি যেকোনো মুহূর্তে বাতিল বা রদবদল হতে পারে।

