তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ফলে নেপালে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢল। এতে নেপালের তিনটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নেপালের উজান থেকে বয়ে আসা এই পানি ত্রিসুলী ও ভোতে কোশি নদী হয়ে ভারতের গণ্ডক নদীর মাধ্যমে বিহারে প্রবেশ করতে শুরু করায় মারাত্মক বন্যা আতঙ্কে পুরো বিহারে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করে রাজ্যজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে গণ্ডক নদীর বাঁধ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে পেট্রোলিং বা নৈশকালীন পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে বিহারের সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, পাহাড়ি ঢল বেয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি একসঙ্গে গণ্ডক নদীতে প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যে বুধবার রাত থেকে বিহারে পানি ঢুকতে শুরু করায় পানির প্রচণ্ড চাপ সামলাতে বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য প্লাবনের আশঙ্কায় গণ্ডক নদীসংলগ্ন পশ্চিম চম্পারন, পূর্ব চম্পারণ, মুজাফফরপুর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ ও সারণ জেলায় সতর্কবার্তা বা মাইকিং জারি রয়েছে। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়া সুরক্ষার অংশ হিসেবে বাল্মীকিনগর ব্যাারেজের পাহারায় বিহার ও উত্তর প্রদেশের প্রকৌশলী টিম মোতায়েন রয়েছে এবং বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ এলাকা থেকে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

