সাত মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি নাকচ করে দিলেও বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তেহরান জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের লিখিত জবাব পেয়েছে। তবে ওই বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট অবস্থান কী, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’-র বরাত দিয়ে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানি জানান, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন বার্তাটি পরোক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে হস্তান্তর করেন।
জবাব পাওয়ার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং একই সাথে ইরানি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখব। যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি উভয় পক্ষের জন্যই সমান সম্মানজনক ও লাভজনক (Win-Win) কৌশলের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।”
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বিশ্ববাজারে তেল প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা ও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ফ্রিজ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের অর্থনৈতিক সংকট
কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরান, হংকং ও পাকিস্তানে অবস্থানরত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অবৈধভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অব্যাহত যুদ্ধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানের খোলা বাজারে মুদ্রার চরম ধস নেমেছে। মঙ্গলবার দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মান সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়, যেখানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ২৫ লাখ রিয়াল অতিক্রম করে। বিদ্যমান সংকট প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে এবং এই সংঘাত খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে।”
ভিতরে তীব্র অস্থিরতা ও দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর
এদিকে দেশের ভেতরের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সহিংসতায় চারজন নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যার দায়ে বুধবার সকালে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট সাজা বহাল রাখার পর মাশহাদ শহরের কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে।

