তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশনের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাবৃত্তির সুবাদে দুই বছর মেয়াদি কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে সাতজন নারী শিক্ষার্থী ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন। সোমবার ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের সহধর্মিণী ও শিক্ষিকা মারুফা বিনতে ইব্রাহিমী। ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের প্রেসিডেন্সির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশন এবারই প্রথম বাংলাদেশি নারীদের জন্য এ ধরনের উচ্চতর শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ তৈরি করেছে। এই বৃত্তির আওতায় সাত শিক্ষার্থীর জন্য বাংলাদেশ-তুরস্ক যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, আবাসন, খাবার, চিকিৎসাসেবা এবং যাবতীয় শিক্ষাসামগ্রীর সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশন।
দুই বছরব্যাপী এই শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি হাদিস, ফিকহ ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন। পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে তাদের তুর্কি ভাষা শেখানোর পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়াও তরুণীদের জন্য জরুরি শিষ্টাচার, আদব-কায়দা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কথোপকথন পর্ব, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই কোর্সে তুরস্কের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান পরিদর্শনের অংশ হিসেবে শিক্ষাসফরেরও পরিকল্পনা রয়েছে, যা তাদের দেশটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা দেবে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো এই ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা করায় আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল। কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগের নতুন পথ উন্মোচিত হলো। এছাড়া, এই কর্মসূচি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

