মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যে আয়োজিত বিশ্ব ইসলামী পর্যটন সম্মেলনের অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাণিজ্যিক প্রদর্শনী ‘ডব্লিউআইটিসি মার্ট’। সুলতান আহমদ শাহ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (এসএএসআইসিসি) আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আন্তর্জাতিক মানের এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তারা সম্মেলনের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম, আলোচনা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগবিষয়ক অধিবেশনে অংশ নেন। এসব অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, পর্যটন বিশেষজ্ঞ ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি তরুণদের মেধা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণ তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে পর্যটন ব্যবসা, হালাল শিল্প ও মুসলিমবান্ধব ভ্রমণ ব্যবস্থা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন। বৈশ্বিক উদ্যোক্তা ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন। সম্মেলনে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এবং হাইকমিশনের বাণিজ্য উইংয়ের প্রধান প্রণব কুমার ঘোষও উপস্থিত ছিলেন।
পাহাং রাজ্যের ঐক্য, পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান লিওং ইউ মান প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো পর্যটন বিষয়ক অভিজ্ঞতা ও ধারণাকে বাস্তব বাণিজ্যিক লেনদেন ও বিনিয়োগের সুযোগে রূপান্তর করা। তিনি পাহাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী দাতো শ্রী দিরাজা হাজি ওয়ান রোসি ওয়ান ইসমাইলের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন।
প্রদর্শনীতে পর্যটন শিল্পের ১৪টি খাতের ১২৩টি স্টল সাজানো হয়েছে। এতে বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজ, ওমরাহ সেবা, হালাল খাবার, হোটেল বুকিং ও স্পা সেবাসহ নানা ধরনের অফার পাওয়া যাচ্ছে। পাহাংয়ের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের সেবা নিয়ে এতে অংশ নিয়েছে, যা স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য এক বড় সুযোগ। কিছু হোটেল ইতোমধ্যে রমজান মাসের বুফে আয়োজনসহ আগাম বুকিংয়ের ওপর বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।
পাহাং রাজ্যে পর্যটন প্রসারে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে লিওং ইউ মান জানান, চলতি বছর ১ কোটি ৫৫ লাখ পর্যটক আগমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বর্তমানে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যা খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। ব্যাপক প্রচার ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সবশেষে তিনি পাহাংয়ের বাসিন্দা ও পর্যটকদের ডব্লিউআইটিসি মার্ট পরিদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয়রা যেভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন ভ্রমণ সুবিধা নিতে পারছেন, তা পর্যটন খাতের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও পাহাং রাজ্যের পর্যটন শিল্পের ধারাবাহিক সম্ভাবনা বজায় থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। শিক্ষার্থীদের এ অংশগ্রহণ শুধু সম্মেলনে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আন্তর্জাতিক পর্যটনশিল্পের কার্যক্রম কাছ থেকে জানা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনুধাবন এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

