টিপিএস সুবিধা শেষ: হাইতিয়ানদের ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অভিযানের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখ লাখ হাইতিয়ান অভিবাসীর আইনি সুরক্ষার মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে তাদের গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) জন্য বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। সিবিএস নিউজের হাতে আসা ফেডারেল নথিপত্র এবং সংস্থাটির দুটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

অভ্যন্তরীণ নথিপত্র অনুযায়ী, এই অভিযানের আওতায় ওহাইও অঙ্গরাজ্যের হাইতিয়ানদের গ্রেপ্তার করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে স্প্রিংফিল্ডের মতো শহরগুলোতে বসবাসকারী বিশাল হাইতিয়ান জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হতে পারে, যা এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রক্ষণশীল রাজনীতিবিদদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, স্প্রিংফিল্ডের হাইতিয়ানরা বিড়াল-কুকুর খাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছিল।

টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখেরও বেশি হাইতিয়ান তাদের কাজের অনুমতি ও নির্বাসন থেকে সুরক্ষার অধিকার হারাতে যাচ্ছেন। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে হাইতি এবং সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য টিপিএস সুবিধা বাতিল করার অনুমতি দেয়। এই রায়ের চূড়ান্ত নির্দেশনা সোমবার নিম্ন আদালতগুলোতে পাঠানো হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের হাইতিয়ান কমিউনিটির মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। টিপিএস সুবিধা বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিবাসীরা বৈধভাবে কাজ করার অধিকার হারাবেন এবং আইসিই তাদের গ্রেপ্তার ও নির্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। তবে যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো বহিষ্কারের আদেশ নেই, তারা সাধারণত নির্বাসনের আগে অভিবাসন বিচারকের সামনে হাজির হওয়ার সুযোগ পান।

নথিপত্র অনুযায়ী, হাইতিয়ানদের লক্ষ্য করে এই বিশেষ অভিযান চলতি সপ্তাহেই শুরু হতে পারে, তবে এর সামগ্রিক পরিধি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইসিই-এর সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, এই পরিকল্পনাগুলো এখনো চূড়ান্ত নয় এবং পরিবর্তনশীল।

হাইতিতে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেখানে নির্বাসন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মানবিক ও রাজনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে দরিদ্র এই দেশটির বিশাল অংশ এখন অপরাধী গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সে চরম অস্থিতিশীলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত কেবল উত্তরের কেপ-হাইতিয়েন অঞ্চলে নির্বাসিতদের পাঠায়। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টও সে দেশের সহিংস পরিস্থিতির কারণে মার্কিন নাগরিকদের কোনো অবস্থাতেই হাইতি ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

এই বিষয়ে আইসিই-এর তদারককারী সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, তারা চলমান বা ভবিষ্যৎ অভিযান নিয়ে আলোচনা করে না। তবে তারা টিপিএস-কে একটি "কার্যত সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচি" হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিবাসীদের নিজ উদ্যোগে দেশ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে ডিএইচএস বলেছে, "আমরা এখন বলতে পারি যে সময় শেষ হয়ে এসেছে। আপনাদের এখনই বাড়ি ফিরে যেতে হবে এমন নয়, তবে আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না।" সংস্থাটি আরও যোগ করেছে, "সুসংবাদ হলো, এখনো সময় আছে। আপনারা ২,৬০০ ডলারের চেক এবং বিনামূল্যে বিমানে বাড়ি ফেরার সুযোগ নিতে পারেন।"

হাইতিয়ান অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা 'হাইতিয়ান ব্রিজ অ্যালায়েন্স'-এর নির্বাহী পরিচালক গার্লিন জোসেফ জানান, নির্বাসনের এই আশঙ্কা হাইতিয়ানদের চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে। তিনি বলেন, "আমাদের কমিউনিটির মানুষ আবারও চরম ট্রমা, ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে। একজন আমাকে বলেছেন, এটি যেন একটি সুনামি বা ভূমিকম্পের মতো, যার আফটারশক বা কম্পন থামছেই না। তার ছোট মেয়েটি এই ভয়ে স্কুলে যেতে চাইছে না যে, বাসায় ফিরে হয়তো সে তার মাকে আর দেখতে পাবে না।"

১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস টিপিএস কর্মসূচি চালু করে। এর অধীনে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া দেশগুলোর নাগরিকদের সাময়িকভাবে কাজের অনুমতি এবং নির্বাসন থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরে এই কর্মসূচি বন্ধের চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, এই সুবিধা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে এবং ডেমোক্রেটিক প্রশাসনগুলো এটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত করেছে। ইতিমধ্যে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, ভেনিজুয়েলাসহ বেশ কয়েকটি দেশের লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য টিপিএস বাতিল বা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থেকে হাইতির জন্য টিপিএস সুবিধা চালু রয়েছে। তবে বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা বেশিরভাগ হাইতিয়ান বাইডেন প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিলেও তা আদালতে আটকে ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক আনা রেয়েস রায় দিয়েছিলেন যে, ট্রাম্প এবং তৎকালীন ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের বর্ণবাদী মন্তব্যের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা জানান, আদালতের এ বিষয়ে পর্যালোচনার এখতিয়ার নেই এবং ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো সরাসরি বর্ণবাদী ছিল না।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিনিয়াপলিস এলাকায় এক বড় অভিযানের সময় ফেডারেল এজেন্টদের হাতে রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি নামে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন বড় আকারের অভিবাসী আটক অভিযান কিছুটা কমিয়েছিল। তবে প্রতিদিন গড়ে ২,০০০ অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপে এই গ্রীষ্মে আইসিই তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। গত মাসে আইসিই-এর হেফাজতে নেওয়া আটককৃতদের সংখ্যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। সম্প্রতি টেক্সাস ও মেইনে ট্রাফিক স্টপের সময় এজেন্টদের গুলিতে মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার দুই অভিবাসী নিহত হয়েছেন।

শিরোনাম :
রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন এক বাংলাদেশি!!! সিরামিক শিল্পে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মারলেন বিরোধী এমপি মার্কিন বাজারে মন্দার মধ্যেও শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ: চীন-ভারতের বড় পতন ঘরভাড়ার ৫০০ টাকা জোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা ‘খেলাধুলায় মাদকমুক্ত সমাজ, তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজতে চাই’: আমিনুল হক মাঠের প্রতিবাদ থেকে নতুন পরিচয়, ইরানের দুই নারী ফুটবলার পেলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব  ধ্রুবতারার বিদায়, মহাতারকা লিওনেল মেসির ছায়াসঙ্গী বাবার প্রয়াণ আমিরাতে হঠাৎ ভিসা বাতিলের ঘটনায় প্রবাসীদের সতর্ক করল বাংলাদেশ দূতাবাস নাসার মহাকাশ গবেষণার নেতৃত্বে এক বাংলাদেশি, জেমস ওয়েবের পর এবার রোমান টেলিস্কোপ রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন এক বাংলাদেশি!!! সিরামিক শিল্পে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়ে মারলেন বিরোধী এমপি মার্কিন বাজারে মন্দার মধ্যেও শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ: চীন-ভারতের বড় পতন ঘরভাড়ার ৫০০ টাকা জোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা ‘খেলাধুলায় মাদকমুক্ত সমাজ, তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজতে চাই’: আমিনুল হক মাঠের প্রতিবাদ থেকে নতুন পরিচয়, ইরানের দুই নারী ফুটবলার পেলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব  ধ্রুবতারার বিদায়, মহাতারকা লিওনেল মেসির ছায়াসঙ্গী বাবার প্রয়াণ আমিরাতে হঠাৎ ভিসা বাতিলের ঘটনায় প্রবাসীদের সতর্ক করল বাংলাদেশ দূতাবাস নাসার মহাকাশ গবেষণার নেতৃত্বে এক বাংলাদেশি, জেমস ওয়েবের পর এবার রোমান টেলিস্কোপ
DGEN NEWS
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.