মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে চীন। আগামী ২০২৭ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকের (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) মধ্যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান ‘লিহোং-২’ (Lihong-2)-এর প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বাণিজ্যিক মহাকাশ সংস্থা ‘সিএএস স্পেস’ (CAS Space)।
চীনভিত্তিক ‘সিএএস স্পেস ফ্রন্টিয়ার ল্যাবস’-এর জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ওয়াং ইংছেং এক সাক্ষাৎকারে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার বিস্তারিত নিশ্চিত করেছেন।
মহাকাশযানের গঠন ও বহনক্ষমতা:
প্রায় ১৮ মিটার লম্বা এবং ৩.৩৫ মিটার ব্যাসবিশিষ্ট পুনর্ব্যবহারযোগ্য এই মহাকাশযানের ওজন প্রায় ৬০ টন। এটি মূলত একটি বুস্টার রকেট এবং একটি পেলোড মডিউলের সমন্বয়ে গঠিত।
নকশা অনুযায়ী, যানটি একবারে অন্তত ৩ টন ওজনের পেলোড (পণ্য বা যন্ত্রপাতি) কিংবা সর্বোচ্চ সাতজন মহাকাশচারী/যাত্রী বহন করতে সক্ষম।
পরীক্ষামূলক কাজের বর্তমান অগ্রগতি:
গবেষক ওয়াং ইংছেং জানান, মহাকাশযানটির প্রাথমিক নকশা বা ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে এবং এর প্রোটোটাইপের স্থলভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত সফলভাবে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যেই পেলোড মডিউল ও বুস্টার রকেটের উইন্ড টানেল পরীক্ষা এবং জ্বালানি ধরে রাখার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে রকেটের ইঞ্জিনের হট ফায়ার টেস্ট ও ক্যাপটিভ ক্যারি পরীক্ষা কার্যক্রম চলছে।
প্রথম উড্ডয়নের লক্ষ্য ও গবেষণা:
প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে যানটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় (মহাকাশের সীমান্ত এলাকা) পৌঁছাবে। এরপর এটি উলম্বভাবে (Vertical Landing) নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসার সক্ষমতা প্রমাণ করবে।
উড্ডয়ন পরীক্ষার অংশ হিসেবে যানটিতে মহাকাশে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (AI) রোবটসহ বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার সামগ্রী বা পেলোড পাঠানো হবে, যা দিয়ে মহাশূন্যের শূন্য-মহাকর্ষ পরিবেশে বিজ্ঞান গবেষণা পরিচালিত হবে।

