দেশের বিদ্যমান একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্র করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থার আওতায় সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে অতিরিক্ত সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে হবে। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে দিয়ে জানায়, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
চলতি ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। এর মূল কারণ হিসেবে বলা হয়, দেশে বিনিয়োগ মন্থর, রপ্তানির গতি হ্রাস এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া। তবে উচ্চ রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা অর্থনীতিকে সামলে রাখতে সাহায্য করছে। সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ ত্বরান্বিত করলে ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের বর্তমানে মোট রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন পর্যায়ের। অন্যদিকে, সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে প্রায় অর্ধেক দরিদ্র পরিবার কোনো সরকারি সহায়তার আওতায় নেই। এ সংকট নিরসনে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

