বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে সার্বিক পোশাক আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি ও গড় দাম—উভয়ই কমেছে। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৫৩৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৪৩ শতাংশ কম।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (ওটিইএক্সএ)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি ৭.৪২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪,৯০৮ কোটি ডলারে। এ সময়ে আমদানিকৃত মোট পণ্যের পরিমাণও ৮.৯৮ শতাংশ হ্রাস পায়। বাজারের এই সার্বিক মন্দায় প্রধান এশীয় সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরণের পতন দেখা গেছে। চীনের আমদানি মূল্য হ্রাস পেয়েছে ২৯.৩৯ শতাংশ এবং ভারতের ক্ষেত্রে তা ২৬.৪৪ শতাংশ কমেছে। এর বিপরীতে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের রফতানি যথাক্রমে ৬.৯১ ও ২.৫৮ শতাংশ বাড়াতে পেরেছে।
আমদানি মূল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করা তৈরি পোশাকের পরিমাণেও ২.৭৫ শতাংশ পতন ঘটেছে। এর চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের প্রতি ইউনিটের গড় দাম ১.৭৩ শতাংশ কমেছে। বাজারজুড়ে সামগ্রিক পণ্যের গড় ইউনিট মূল্য ১.৭১ শতাংশ বাড়লেও চীন, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো প্রধান সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রে গড় দাম হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে দীর্ঘস্থায়ী এই মন্দার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে একক মাস হিসেবে আগস্টের চিত্র। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ১১.১৫ শতাংশ বেড়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সার্বিক চাহিদা কমলেও আগস্টের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক সংকেত দেয়। তবে বিশ্ববাজারে সরবরাহকারীদের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং পণ্যের ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশি রফতানিকারকদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বাজার ধরে রাখতে এখন উচ্চমূল্যের পোশাক রফতানি ও গুণগত মান বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

