নতুন বছর ২০২৭ আসতে এখনো মাস তিনেক বাকি থাকলেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের চোখ এখন আগামীর হিজরি বর্ষপঞ্জির দিকে। পবিত্র রমজান মাস কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসেব-নিকেশ। বর্তমান জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ১৪৪৮ হিজরির রবিউস সানি মাস শুরু হয়েছে। সেই হিসেবে রমজান মাসের আর মাত্র পাঁচটি চন্দ্রমাস বাকি রয়েছে। তবে হিজরি বর্ষপঞ্জির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী পবিত্র এই মাসের চূড়ান্ত সূচনা নির্ভর করবে খালি চোখে চাঁদ দেখার ওপর।
কেন প্রতি বছর এগিয়ে আসে রমজান মাস?
ইংরেজি (গ্রেগোরিয়ান) বর্ষপঞ্জির একই তারিখে পর পর দুই বছর রমজান মাস শুরু হয় না। হিজরি বর্ষপঞ্জি পরিচালিত হয় চন্দ্রমাসের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে হিজরি বছর ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়—যা সৌর বা ইংরেজি বছরের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন কম।
এ কারণে প্রতিবছরই রমজান মাস আগের বছরের চেয়ে ১০-১১ দিন এগিয়ে আসে। আর এই নিয়মের ফলে প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে বছরের প্রতিটি ঋতুতেই (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত বা শরৎ) রোজা পালনের অভিজ্ঞতা পান মুসলিমরা।
তারাবি ও সম্ভাব্য ঈদের তারিখ
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সন্ধ্যায় আকাশে পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে।
-
প্রথম তারাবি: ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সে রাতেই এশার সালাতের পর প্রথম তারাবি অনুষ্ঠিত হবে এবং শেষ রাতে সেহরি খেয়ে পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে।
-
ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ: চন্দ্রমাসের হিসাব অনুযায়ী রমজান ২৯ বা ৩০ দিনে সম্পন্ন হতে পারে। সে অনুযায়ী শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ১০ মার্চ (বুধবার)।
উল্লেখ্য, ইসলামি ক্যালেন্ডারের নবম ও সবচেয়ে পবিত্র মাস হলো রমজান, যে মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। পুরো মাসজুড়ে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে বিশ্ব মুসলিমরা আত্মসংযম ও ইবাদতে মশগুল থাকেন।

