অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন ভার্চুয়াল প্রোডাকশন ও ব্রডকাস্ট স্টুডিও ‘লেন্সস্টোরি ব্রডকাস্ট অ্যান্ড কনটেন্ট স্টুডিও’। রিয়েল-টাইম ভার্চুয়াল পরিবেশ, সিনেমাটোগ্রাফি, ব্রডকাস্ট প্রোডাকশন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে স্টুডিওটি।
গত ১ অক্টোবর পোর্ট মেলবোর্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্টুডিওটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। লেন্সস্টোরির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেমি হোসেন এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাসুদুর রহমান (মাস) এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা। উদ্বোধনী আয়োজনে টেলিভিশন, মিডিয়া, চলচ্চিত্র, ব্যবসা ও মেলবোর্নের সৃজনশীল অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্টুডিওটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভিক্টোরিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী, সমতাবিষয়ক মন্ত্রী এবং ওয়ার্কসেফ ও টিএসি বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ডিমোপোলোস এমপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টেলিভিশন উপস্থাপক ও অভিনেত্রী ক্রিস্টি হেইস।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সামনে লেন্সস্টোরির ভার্চুয়াল প্রোডাকশন প্রযুক্তির লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন তুলে ধরা হয়। একই ফিজিক্যাল স্টুডিওকে প্রযুক্তির মাধ্যমে কখনো ভার্চুয়াল নিউজ স্টুডিও, কখনো স্পোর্টস এনভায়রনমেন্ট, আউটডোর লোকেশন, ব্র্যান্ডেড স্টেজ কিংবা পারফরম্যান্স স্পেসে রূপান্তর করে দেখানো হয়। একটি লাইভ নৃত্য পরিবেশনাও ভার্চুয়াল সেটের সঙ্গে সমন্বয় করে উপস্থাপন করা হয়।
পোর্ট মেলবোর্নের ৪/২০০ টার্নার স্ট্রিটে অবস্থিত লেন্সস্টোরিকে শুধু একটি শুটিং স্পেস নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে বড় আকারের সাইক্লোরামা ও গ্রিন-স্ক্রিন স্টেজ, রিয়েল-টাইম থ্রিডি ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্ট, ক্যামেরা ট্র্যাকিং, এলইডি ভলিউম, সিনেমা ক্যামেরা, পেশাদার লাইটিং ও অডিও এবং সমন্বিত ব্রডকাস্ট প্রোডাকশন অবকাঠামো।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবার আলাদা সেট নির্মাণ কিংবা পুরো প্রোডাকশন টিমকে এক লোকেশন থেকে অন্য লোকেশনে না নিয়েও ক্যামেরার সামনে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। টেলিভিশন ও ব্রডকাস্ট অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট, সাক্ষাৎকার, পডকাস্ট, করপোরেট প্রোডাকশন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কনটেন্ট, পণ্য উদ্বোধন, লাইভ প্রেজেন্টেশন এবং ভার্চুয়াল ইভেন্ট তৈরির সুবিধা রয়েছে এখানে। নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা প্রোডাকশনের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টম ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরির সুবিধাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
লেন্সস্টোরির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হেমি হোসেন বলেন, গল্প বলা, প্রযুক্তি ও প্রোডাকশনকে একটি পরিবেশে নিয়ে এসেছে লেন্সস্টোরি। নির্মাতা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন সব প্রোডাকশন সুবিধার নাগাল দেওয়াই তাদের লক্ষ্য, যেগুলোর জন্য প্রচলিতভাবে অনেক বড় অবকাঠামো, একাধিক লোকেশন এবং উল্লেখযোগ্য সময়ের প্রয়োজন হতো।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাসুদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তিতে ভরা একটি কক্ষ তৈরির জন্য লেন্সস্টোরি গড়ে তোলা হয়নি; বরং চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক ও ব্র্যান্ডগুলোর সৃজনশীলতার সীমাবদ্ধতা কমানোই এর উদ্দেশ্য। স্টুডিও একই জায়গায় থাকলেও ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জগৎ তৈরি করা সম্ভব।
প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সিনেমাটোগ্রাফির সঙ্গে রিয়েল-টাইম প্রোডাকশন প্রযুক্তি এবং উদীয়মান এআই-সহায়ক ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কফ্লোর সমন্বয় করাই প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। একই সঙ্গে নির্মাতা ও প্রযোজকের প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোপুরি প্রচলিত কিংবা ভার্চুয়াল প্রযুক্তিনির্ভর—দুই ধরনের প্রোডাকশনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, প্রোডাকশন কোম্পানি, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিজ্ঞাপন ও ক্রিয়েটিভ এজেন্সি, বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ ও সহযোগিতার জন্য স্টুডিওটি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

