সিঙ্গাপুরের প্রসেসিং ও টেকনিক্যাল খাতের দুটি প্রতিষ্ঠানে গত তিন মাস ধরে বকেয়া বেতন না পাওয়া এবং আকস্মিকভাবে ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের শিকার হয়েছেন অন্তত ২৪০ জন অভিবাসী শ্রমিক। ভুক্তভোগী এসব শ্রমিকের একটি বড় অংশই বাংলাদেশি নাগরিক।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সিঙ্গাপুরের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্য স্ট্রেইটস টাইমস-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত দুই প্রতিষ্ঠান ও সরকারি তদন্ত:
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (এমওএম) গত ২৪ অক্টোবর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘প্রসেস মেইনটেনেন্স সলিউশনস’ এবং ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ নামের ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
বর্তমানে বকেয়া বেতনের ক্ষতিপূরণ আদায়ে ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপুট ম্যানেজমেন্ট (টিএডিএম) এবং মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স সেন্টারের (এমডব্লিউসি) মাধ্যমে ভুক্তভোগী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সার্বিক আইনি সহায়তা দিচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার।
মালিকানায় অপরাধী চক্রের যোগসাজশ:
দ্য স্ট্রেইটস টাইমস-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, কাগজপত্রে আলাদা হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির নীতি নির্ধারকদের মধ্যে গভীর যোগসাজশ রয়েছে। তাদের কর্মীদের শিল্প এলাকা তুয়াসের একটি নির্দিষ্ট ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটির বর্তমান পরিচালকরা এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে সম্প্রতি মালিকানা গ্রহণ করেছেন, যিনি গত জুলাই মাসে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত জালিয়াতি ও একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
শ্রমিকদের আকুল আবেদন ও উদ্বেগ:
ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানিয়েছেন, গত আগস্ট মাস থেকে তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই দলে দলে শ্রমিকদের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা শুরু করে প্রতিষ্ঠান দুটি।
হঠাৎ চাকরি হারিয়ে এবং তিন মাসের বকেয়া বেতন না পাওয়ায় সিঙ্গাপুরে নিজেদের অবস্থান রক্ষা ও দেশে থাকা পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এই প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

