জ্বালানি তেলের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির তীব্র উদ্বেগের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ মেয়াদে সুদের হার বেশি থাকার আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। এর প্রত্যক্ষ ধাক্কায় আন্তর্জাতিক বিশ্ববাজারে হু হু করে কমছে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম কমে গত এক বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সাথে রুপার দামও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫০ ডলারের নিচে নেমে গেছে।
ধাতুর দামের বর্তমান চিত্র:
আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩,৯১০.৫৩ ডলারে নেমে আসে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় দরপতন।
একই সাথে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর ২.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩,৯১৯.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো স্বর্ণের বাজারে পতন দেখা যাচ্ছে, যেখানে চলতি অক্টোবর মাসেই দাম কমেছে প্রায় ৫.৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, রূপার দামেও চরম ধস নেমেছে। স্পট মার্কেটে দর ৫.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৯.৩৪ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যান্য কিমীতি ধাতুর মধ্যে প্লাটিনামের দাম ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৪২৮.৩৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩.১ শতাংশ কমে ৯৭৫.২৫ ডলারে এসে ঠেকেছে।
সুদের হার ও আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অবস্থান:
জেনার মেটালসের জ্যেষ্ঠ মেটালস কৌশলবিদ পিটার গ্রান্ট জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়াকে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর ডিসেম্বরে সুদের হার আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো সম্পদ—যা থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা আসে না—তার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
শেয়ারবাজারের চাপ ও এশিয়ার বাজারের স্থবিরতা:
কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের উদ্বেগে শেয়ারবাজারের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক (Nasdaq) সূচকে বড় দরপতন ঘটেছে। এতে মার্জিন কলের পরিস্থিতি এড়াতে বাধ্য হয়ে অনেকেই স্বর্ণ বিক্রি করে নগদ ক্যাশ সমন্বয় করছেন।
এদিকে দরপতনের আশঙ্কায় এশিয়ার প্রধান বাজার ভারতে খুচরা ক্রেতারা স্বর্ণ কেনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ ভোক্তা দেশ চীনেও ভৌত স্বর্ণের চাহিদা ছিল অত্যন্ত মন্থর।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ ও রুপার এই দরপতন কিছুটা অতি-প্রতিক্রিিয়া বা অতিরঞ্জিত। বিশ্ব অর্থনীতি সামলে উঠলে খুব শিগগিরই মূল্যবান ধাতুর বাজারে পুনরুদ্ধার বা ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

