বিএনপি সরকারের সমালোচনায় সোচ্চার হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, তারেক রহমানের হাতে দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। বিএনপি সরকারের বিতর্কিত আইন প্রণয়ন, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে যা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণের পথ তৈরি করে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গুমের যথাযথ তদন্ত না হওয়া, মানবাধিকার কমিশনের অকার্যকর অবস্থা এবং ভিন্নমত দমনে আইনের অপব্যবহার দেশে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, বেশ কিছু আইন পাশ করা হয়েছে যা জনগণের মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার বদলে তা লঙ্ঘনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, দেশের মানুষ যে গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই করেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা এখনো অপূর্ণ। সংসদ ভবনের সামনে এই মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা জনগণের কাছে সেই বার্তাটিই পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তিনি বিশেষ করে মিরাজ শেখের গুম হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যিনি পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, মিরাজ শেখের গুমের ঘটনায় পুরো বিশ্ববাসী অবগত থাকলেও সরকার এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা স্বীকার করছে না। পরিবারটি মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি এবং সাধারণ ডায়েরিতেও কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে বাধা দিয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর ও সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। সরকারপ্রধানকে নিয়ে কটূক্তির কারণে তানভীরের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার ধরন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, মিম তৈরি বা সমালোচনা করা অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে, তবে একে সন্ত্রাস হিসেবে গণ্য করে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়। হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের চোখ হারানোর ঘটনার মাধ্যমে বিরোধী দল দমনের প্রক্রিয়া যে শুরু হয়েছে, তাও তিনি উল্লেখ করেন।
তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ যদি তাদের হাতেই তদন্ত করতে দেওয়া হয়, তবে তা কখনো নিরপেক্ষ হবে না। এছাড়া ভুল অভিযোগের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রেখে সরকার মানুষকে হয়রানির শিকার হতে বাধ্য করছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ বলেন, বিএনপি এক সময় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করলেও এখন ক্ষমতায় বসে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, তিনি সেখানে বিএনপির নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। জাতীয় ঐক্য গড়তে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে ঐক্য দেখিয়েছিলেন, তারেক রহমান তা পারেননি। বর্তমান সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন নিয়ে সমালোচনায় তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলকে টার্গেট করার একটি কৌশল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির তদন্ত না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিশেষে, পুলিশ সংস্কারের অভাব এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার সুশাসন ও সেবা দিতে ব্যর্থ। মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও সাইবার আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, এসব কর্মকাণ্ডে দেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে বড় ধরনের গণআন্দোলন আসন্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, “সরকারপ্রধানকে নিয়ে খারাপ ভাষায় কটূক্তি করায় এনসিপি দলীয়ভাবে তানভীরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সেটিকে সন্ত্রাস হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিগত ১৬ বছর বিএনপির নেতারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন সরকারে থেকে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী জবাব দেবেন।”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, “আমরা তারেক রহমানকেও বলব, দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনি সঠিক দিশায় আসুন, গণতন্ত্রের পথে আসুন।”।

