সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আর কেবল বিনোদন বা যোগাযোগের ক্ষেত্র নয়; এটি প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, চিন্তাধারা ও পেশাগত যোগ্যতার অন্যতম মাপকাঠি। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন কর্মী নিয়োগ বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ যাচাই করে থাকে। বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিজীবীদের ফেসবুকে যে ২০টি বিষয়ে পোস্ট করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি:
-
১. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা: জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ফোন নম্বর বা ই-মেইল প্রকাশ্যে দেওয়া নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
-
২. লোকেশন বা অবস্থান: রিয়েল-টাইম লোকেশন চেক-ইন বা চলাচলের নিয়মিত রুট প্রকাশ করা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।
-
৩. ব্যক্তিগত ছবি: অনুমতি ছাড়া অন্যের অপ্রস্তুত মুহূর্তের ছবি বা পারিবারিক সংবেদনশীল ছবি শেয়ার করা অনুচিত।
-
৪. ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন: প্রেম বা দাম্পত্যের বিচ্ছেদ নিয়ে অভিযোগ ও ব্যক্তিগত কথোপকথন জনসমক্ষে তুলে ধরা অপেশাদারিত্ব।
-
৫. চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট: কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মেসেজ, ই-মেইল বা ইনবক্সের স্ক্রিনশট প্রকাশ করলে বিশ্বাসের সম্পর্ক নষ্ট হয়।
-
৬. আবেগ বা রাগের বহিঃপ্রকাশ: তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বশে আক্রমণাত্মক পোস্ট দিলে তা দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম নষ্ট করতে পারে।
-
৭. অতিরিক্ত হতাশা: সামাজিক মাধ্যমে বারবার চরম নেতিবাচক বা হতাশাগ্রস্ত স্ট্যাটাস দিলে বড় দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
-
৮. অমর্যাদাকর ভাষা: কমেন্ট বা স্ট্যাটাসে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার ব্যবহারকারীর সৌজন্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
-
৯. সংবেদনশীল বা উসকানিমূলক মন্তব্য: ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অঞ্চল নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আইনি ও পেশাগত জটিলতা তৈরি করে।
-
১০. যাচাইহীন রাজনৈতিক মতামত: সত্যতা যাচাই না করে অন্ধভাবে বা উসকানিমূলক ভাষায় রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার করা ক্ষতিকর।
-
১১. চরম রাজনৈতিক প্রচার: ভিন্নমতের মানুষকে অপমান বা হেয় করে পোস্ট দিলে প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়।
-
১২. ভুয়া অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা: যে কাজ বা দক্ষতা নিজের নেই, তা নিয়ে মিথ্যা প্রচার করলে ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশনে ধরা পড়ে যাবেন।
-
১৩. চাকরি না পাওয়ার ক্ষোভ: ভাইভায় বাদ পড়ে বা চাকরি না পেয়ে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাড়লে অন্য প্রতিষ্ঠানেও সুযোগ বন্ধ হতে পারে।
-
১৪. কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়: অফিসের মিটিংয়ের আলোচনা, সহকর্মীদের সাথে মতবিরোধ বা গোপন তথ্য ফেসবুকে লেখা অপেশাদার আচরণ।
-
১৫. কোম্পানির গোপনীয়তা লঙ্ঘন: প্রতিষ্ঠানের নতুন পণ্য, আর্থিক তথ্য বা ব্যবসায়িক কৌশল অঘোষিতভাবে প্রকাশ করা চুক্তির লঙ্ঘন।
-
১৬. বস বা সহকর্মীদের নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট: নাম না লিখেও ‘অযোগ্য বস’ বা ‘টক্সিক সহকর্মী’ লিখে পোস্ট দিলে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নষ্ট হয়।
-
১৭. পূর্ববর্তী কর্মক্ষেত্রের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ: চাকরি ছাড়ার পর সাবেক প্রতিষ্ঠানকে অপমান করে পোস্ট দিলে নতুন নিয়োগকর্তারাও আপনাকে নিয়ে সতর্ক হয়ে যান।
-
১৮. কর্মঘণ্টা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য: কর্মঘণ্টায় ‘বোরিং জব’ বা ‘কাজ করতে ভালো লাগে না’ লিখে পোস্ট দিলে কাজের প্রতি অবহেলা স্পষ্ট হয়।
-
১৯. প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কনটেন্ট: নিজের প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা ব্র্যান্ডকে ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো মিম, ট্রল বা পোস্ট শেয়ার করা অনুচিত।
-
২০. স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest): বর্তমান কোম্পানির সরাসরি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার পক্ষে প্রচার চালানো আনুগত্যের প্রশ্ন তোলে।

