মূল্যস্ফীতি, আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। প্যারিস, মার্সেইসহ একাধিক শহরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শনিবার দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এলে মূল বিক্ষোভের আড়ালে কালো পোশাক ও মুখোশ পরিহিত দাঙ্গাকারীরা ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। রোববারও (১৮ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিস ও লিওঁর রাস্তায় টিয়ার গাস, স্টান গ্রেনেড ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রান্সজুড়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করেছে। সহিংসতায় অন্তত ১ হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
ঐতিহাসিক সিটি হল ধ্বংস:
সহিংসতার সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা গেছে ফরাসি শহর লিমোজে। সেখানে দাঙ্গাকারীদের দেওয়া আগুনে ১৯ শতকে নির্মিত ১৪৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক সিটি হলের বিশাল অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে ভবনটির ৪৩ মিটার উঁচু ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ভেঙে পড়ে। ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংসের এই ঘটনায় ফ্রান্সজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর বক্তব্য:
এলিসি প্রাসাদ থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক জরুরি ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “লুটপাট ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পর আমরা সবাই গভীর ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি। বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে এই লাগামহীন দাঙ্গাকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। এ ধরনের অরাজকতার কোনো অজুহাত হতে পারে না এবং জড়িত সবাইকে কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, বিপণি বিতান ও সরকারি ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ও স্থানীয় মেয়রদের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের বিষয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা রাখা হবে।

