স্বৈরাচারী চক্র ও দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী একটি মহল ঐক্যবদ্ধ হয়ে পোশাক খাতসহ বিভিন্ন কল-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ জোগান দেওয়া হচ্ছে এবং দেশে বসে একটি চক্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। আপনারা দেখেছেন যে সম্প্রতি দেশের কয়েকটি কল-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের চেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রবাসে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সেখানে অর্থ পাঠাচ্ছে, আর দেশের ভেতরে মিথ্যা টিকিট বিক্রি করা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা সেই অর্থ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে। এই অপশক্তির বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রসঙ্গে সমালোচনা:
২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মারক স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সোমবার ঢাকায় জুলাই স্মারক স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করেছি এবং সেখানে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে যেসব দল মুখে চব্বিশের চেতনা ধারণের কথা বলে, তারা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। ১৯৭১ সালে যেভাবে তারা জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিল, চব্বিশের আন্দোলনেও তারা ঠিক একই আচরণ করছে।”
আখচাষিদের ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা হস্তান্তর:
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বোতাম চেপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির ব্যাংক ও মোবাইল অ্যাকাউন্টে মোট ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ১৫ জন প্রতিনিধির হাতে প্রণোদনার প্রতীকী চেক তুলে দেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় জনসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

